.
গল্প
সবাই ভালো
শ্রী রায়
July 07, 2026
গ্রামের ধানক্ষেতের মাঝখানে, পাকারাস্তা থেকে একটু ভিতরে একটা তালগাছ ছিল। বেঁটে খাটো গাছ। তাল হতো না। কেবল জট বের হতো। ওগুলো আসলে তালগাছের ফুলের মঞ্জরী। শুকিয়ে গেলে জটার মতো দেখতে হতো। জোরে বাতাস বইলে ঝরে পড়ত মাটিতে।
সেই গাছটায় বছর দুয়েক ধরে একটা একপেয়ে একানড়ে এসে বসবাস করতে শুরু করেছে। মাঠে চাষ করার সময় চাষীরা বুঝতে পারত ঐ গাছটায় কিছু একটা আছে। অনেকে আবার রাতের অন্ধকারে ফাঁকা মাঠে তালগাছটা থেকে ঝুরঝুর করে আগুনের ফুলকি ঝরে পড়তেও দেখেছে।
ভূতটা অশরীরী হয়েই ছিল, কাউকে দেখা দেয়নি কোনো অনিষ্টও করেনি বরং ও আসার ফলে চাষবাসের উন্নতি দেখা দিল। ফলে গ্রামের মানুষেরা আদর করে একানড়েটাকে তালভূত বলে ডাকতে লাগল।
একদিন এক চাষীবউ নয়নতারা নাম, সে তার চাষী বরকে দুপুরের খাবার দিতে এসেছিল। তারসঙ্গে ছিল ভাত, ডাল আর আলুভাজা।
চাষী সেগুলো সপ সপ্ করে খেয়ে নিল। ভাত খাওয়ার পর চাষী বউ তার শাড়ির কোঁচড় থেকে ছোট্ট একটা কৌটো বের করল। তার মধ্যে ছিল নটা তালের বড়া। চারটে চাষী খেল চারটে খেল চাষীর বউ। বাকি রইল একটা।
Advertisement
📜 CALL FOR SUBMISSIONS 📜
Bhasapath invites submissions for its upcoming issue, themed:
“The Fall”
Inspired by John Milton’s Paradise Lost
How do you interpret the Fall?
Whether through poetry, prose, or critical articles we invite you to engage with the theme in your own way.
You may choose to:
- Reimagine and reinterpret Paradise Lost from the perspectives of its characters, such as Satan, Adam, or Eve
• Explore alternate endings and narratives
• Reflect on ideas of temptation, rebellion, free will, loss, exile, redemption, and disobedience
• Critically engage with Paradise Lost and its themes
We welcome:
✦ Poetry (Word Limit: 20 lines)
✦ Prose (Word Limit: 1000 words)
✦ Critical Articles (Word Limit: 1500 words)
Submission Guidelines
- Language: English
- Original, unpublished work only
- Deadline: To be announced
- Submissions are to be emailed at bhasapathenglishmagazine@gmail.com
We look forward to reading your work.
সাংস্কৃতিক সংবাদ
জীবন কৃতী সম্মান সিদ্ধেশ্বর আচার্য্যর
June 18, 2026
বেশ কিছু দিন ধরেই অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে আছেন ৷ এর মধ্যে কিডনি জনিত অপারেশনও হয়েছে কলকাতার একটি নামী বেসরকারী হাসপাতালে ৷ কালনাতেও ভর্ত্তি ছিলেন একটি নার্সিংহোমে ৷ এ অবস্থায় তিনি বাইরের জগতের থেকে অনেকটাই দূরে আছেন ৷ এ অবস্থায় সম্প্রতি সিদ্ধেশ্বর বাবুর বাড়ি গিয়ে তাঁকে সম্মানিত করে এলেন ভাষাপথের একদল সদস্য ৷ উল্লেখ্য তিনি নিজেও ভাষাপথের প্রধান উপদেষ্টা ৷
প্রবন্ধ
ডলারের দম্ভ বনাম ফ্লেমিঙ্গোর ডানা: ট্রাম্পের জামাইয়ের বিলাসবহুল রিসর্ট ও এক অবরুদ্ধ রাজধানীর রূপকথা
অয়ন মুখোপাধ্যায়
June 17, 2026
দূর আলবেনিয়ার সমুদ্র উপকূল। নোনা বাতাস আজ ভারী। সেখানে হঠাৎ ডানা ঝাপটাচ্ছে একঝাঁক ফ্লেমিঙ্গো। এই গোলাপি ডানা আজ শুধু ওড়ার জন্য ছটফট করছে না। তারা যেন এক কর্পোরেট কফিনের ওপর মৃত্যুর পরোয়ানা লিখছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার অলিন্দে জ্যারেড কুশনারের বাস। সম্পর্কে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই। এই কুশনারের লোভী চোখ পড়েছে আলবেনিয়ার শান্ত প্রকৃতির বুকে। কুশনার সাহেবদের ডলারের পাহাড় আছে। তাঁদের কাছে আলবেনিয়ার এই নোনা জল আর পরিযায়ী পাখির কলকাকলি নেহাতই এক ফালতু বিলাসিতা। তাই সেখানে মাথা তুলবে দশ হাজার ঘরের এক দানবীয় বিলাসবহুল রিসর্ট। প্রকৃতির ফুসফুসটা খুবলে নিতে চাইছে কুসনার সাহেব। সেখানে বসানো হবে কংক্রিটের এক কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড।
কিন্তু হিসাবের খাতায় একটা মস্ত বড় ভুল করে ফেলেছেন এই মার্কিন ধনকুবের। তিনি ভুলে গেছেন এক আশ্চর্য আদিম প্রতিরোধের কথা। পুঁজির দম্ভ যেখানেই প্রকৃতিকে রক্তগঙ্গায় ভাসাতে চাইছে, ঠিক সেখানেই গড়ে উঠছে প্রতিরোধ ।
প্রবন্ধ
বৈষ্ণব সাহিত্যর অনুসারী মাতৃ সাধক ভবা পাগলা
সত্যেন্দ্র প্রসাদ নন্দী
June 01, 2026
যুগে যুগে বাংলা সাহিত্যের সম্ভারকে রত্নখচিত করে তুলেছেন বিভিন্ন মতের সাধক। বৈষ্ণব, বৈষ্ণবসহজিয়া, বাউল, মরমিবাদ, ফকিরি, সুফি এবং শাক্তপদাবলীর বিভিন্ন রচনা। ভবা পাগলা হলেন বিংশ শতাব্দীর এক জন অন্যন্য সাধক। ব্যক্তিত্বগত প্রতিভায় যে স্বাক্ষর রেখেছেন তা শুধু অনস্বীকার্য নয় গবেষকদের গবেষণার বস্তুগত উপাদান। একজন মানুষ থেকে তাঁর সিদ্ধ পুরুষে রূপান্তরের ক্ষেত্রে যে সকল বিশেষণে তাঁকে প্রতীয়মান করা হোক না কেন, সকল বিশেষণই তাঁর কাছে যেন ক্লিশে হয়ে পড়ে। তিনি তাঁর সাধনায় সিদ্ধ সাধক, মহাপুরুষে উত্তোরণ, উত্তর প্রজন্মের কাছে মহামানব।
চিঠি
অভয়া কে একটি খোলা চিঠি
স্বপ্নেশ গুপ্ত
May 28, 2026
অভয়া,
কোথায় আছেন জানি না। কেমন আছেন তাও জানি না। জানার উপায়ও নেই। এখনো কি আশা করেন? স্বপ্ন দেখেন? নাকি এত দিন ধরে সুবিচার থেকে বঞ্চিত হবার তীব্র বেদনায়, অবসাদে, হতাশায় আপনার আশার মৃত্যু হয়েছে। স্বপ্ন দেখার ইচ্ছা আপনি হারিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন রাতের পর রাত জেগেও আমাদের চোখে ঘুম নেই। লাঞ্ছনা, অত্যাচার, অপমান, নিগ্রহ, হুমকি, ধমক, চমকানির পরেও আপনার বোনেরা, দিদিরা, মা -কাকিমা রা, দাদা রা ভাইরা, কাকারা, জ্যাঠারা জেগে আছি। প্রতি মুহূর্তে আমরা তীব্র যন্ত্রণায় বিবশ হয়ে গেছি কারণ আমরা দেখেছি আমাদের চোখের সামনে রাজপথে বীর দর্পে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেই শ্বাপদ রা যারা আপনার হত্যার জন্য পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভাবে দায়ী।
গল্প
সেদিন কুয়াশা ভোরে
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস
May 18, 2026
ঘুমটা আমার হঠাৎই ভেঙে গেল৷ এখন শীত শেষে বসন্ত আসব আসব করছে৷ তবু ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব আছে বেশ৷ আর আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা তো আছেই৷ মনে হল, বাথরুম গেলে ভাল হয়৷ বোন পাশেই ঘুমে অচেতন৷ ঘরের দরজা খুলে বাইরে এলাম৷
আমাদের একতলা বাড়ি৷ উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা৷ সামনে অনেকটা জায়গা নিয়ে আমাদের বাগান৷ বাবা মা আমার বোনের— সকলের প্রিয় শখ বাগান করা৷ মরশুমী ফুলরা এখনও শুকিয়ে যায় নি৷ এবার বেশ দেরী করেই ফুটেছে ডালিয়াও৷
ভেতরে একটা লম্বা গ্রীলঘেরা বারান্দার পাশে আমাদের ঘরগুলো৷ বারান্দার দুপ্রান্তের দুটি ঘর শোবার ঘর হিসাবে ব্যবহৃত হয়৷ মাঝে রান্না-খাবার ঘর, তা ছাড়া আছে একটা বড় ঘর যেটা লোকজন এলে শোয়ার ঘর, না হলে বসার কাজে লাগে৷ আমাদের দু’বোনের পড়ার জন্যও ব্যবহার হয়৷ বাইরে খোলা জায়গায় কলতলা আর সঙ্গে একটা বড় বাথরুম আছে, তবু ছোট একটা বাথরুম বারান্দার এক প্রান্তে—বাবার ঘরের পাশে আছে, যাতে বারান্দার গ্রীল খুলে রাতে আর বাইরে যেতে না হয়৷
প্রবন্ধ
রবীন্দ্র বীক্ষায় শিব
স্বপ্নেশ গুপ্ত
May 13, 2026
রবীন্দ্র নাথ ধর্ম বিশ্বাসের দিক থেকে ব্রাহ্ম ছিলেন। খুব স্বাভাবিক ভাবেই তাই তিনি পৌত্তলিকতায় বিশ্বাস করতেন না। এমন কী সারা জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি মূর্তি পূজোর বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে এও লক্ষ্যনীয় তিনি শিবের বন্দনা করেছেন। ধ্যান মন্ত্র এমন কী বিবিধ পুরাণে শিবের যে ভিন্ন ভিন্ন রূপ বৈশিষ্টের বার্ণনা আছে রবীন্দ্র নাথ তাঁর কবিতায়, গানে, প্রবন্ধে সেই রূপ গুলির এবং শিবের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্টের প্রতি তাঁর প্রণতি নিবেদন করেছেন। আসলে সত্য, সুন্দরের পূজারী কবি সত্যম, শিবম, সুন্দরমের প্রতি অর্ঘ্য নিবেদন করেছেন সুর, তাল, ছন্দ এবং শব্দের উপাচারে।
প্রবন্ধ
রবীন্দ্রনাথ ও ধর্ম
অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
May 09, 2026
প্রবন্ধ
মন্দিরময় পাথরার কথা
সুতনু ঘোষ
May 09, 2026
ভ্রমণ
দ্য ল্যুভর (The Louvre)
মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী
April 22, 2026
আমার অনেকদিনের ইচ্ছে একবার ল্যুভর মিউজিয়ামটি দেখতে যাবার l এতো নামী দামী শিল্পীদের আঁকা ছবি এবং ভাস্কর্য সেখানে রয়েছে যে প্রত্যে কেরই হয়তো সে ইচ্ছে থেকে যায় l এবারের গ্রীষ্মের ছুটিতে তাই ভাবলাম বহুদিনের শখ যখন রয়েই গেছে তাহলে এবার সেটা পূর্ণ করেই নিই l তাই চল লাম প্যারিসের উদ্দেশ্যে l প্রথমে লন্ডনে পৌঁছে কদিন ঘোরাঘুরি করে ভিক্টরিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে টুরিস্ট বাসে চেপে ডোভার পোর্ট I সেখানে জাহাজের ভেতরেই বাস ঢুকে গেলো ,আরো অনেক বাস গাড়ি সব রয়েছে l আমাদে র সিট্ ছিল পাঁচতলায় ,ওখানে বসে কফি আর স্ন্যান্কস খেতে খেতে ইংলিশ চ্যানেল পার হতে থাকলাম l ইংলিশ চ্যানেলের তলা দিয়ে পাতাল রেলের ব্যবস্থাও আছে কিন্তু জাহাজে করে যাওয়ার মজাই আলাদাl ঘন্টা খানেক সময় লাগলো, ইংলিশ চ্যানেল পার হতে, ওপারে গিয়ে পৌছুলাম ক্যালে পোর্টেl সেখান থেকে আর অন্য কোথাও না গিয়ে সোজা প্যারিস l পর দিন সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে সোজা বিখ্যাত ল্যুভর মিউজি য়ামে l
প্রবন্ধ
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাসাহিত্যে জাতিভিত্তিক ভাবনা
কাঞ্চন ঘোষ (গবেষক, সিকম স্কিলস্ ইউনিভার্সিটি, কেন্দ্র ডাঙ্গাল, বোলপুর, বীরভূম)
April 17, 2026
বাংলা সাহিত্যে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারে মাটির কাছ থেকে মাটির সঙ্গে মিশে সাহিত্য রচনায় ব্রতী ছিলেন। তাই তিনি মাটির শিল্পী প্রবৃত্তি ও নিয়তির বিচিত্র লীলার সার্থক রূপকার। গ্রামের সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের কথা তিনি উপন্যাসে তুলে ধরেছেন। হিন্দু মুসলমান প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মানুষের কথা বিশেষ করে নিম্নবিত্ত মানুষের কথা বেশি করে উপন্যাসে স্থান পেয়েছে। তিনি মানুষের সঙ্গে মিশে মানুষের ধর্ম, বিশ্বাস, লোক ভাবনা, নীতি পরিচয়, মানবিক বোধ সমস্ত কিছুই বর্ণনা করেছেন। সেই জন্য তাঁর উপন্যাসে প্রাণের কথা, মনের কথা বেশি করে ফুটে উঠেছে।
প্রবন্ধ
নববর্ষ, হালখাতা ও প্রাচীন বাংলার বাণিজ্য
অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় (ইতিহাস পাঠক ও গবেষক)
April 15, 2026
১৪৩৩ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন ১ লা বৈশাখ যতটা না মাঙ্গলিক সংস্কৃতির পরিচায়ক তার চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্নদিন বাংলার ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ৷ বাংলা সন বা বর্ষের ইতিহাস অনেকদিনের ৷বহু প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের বঙ্গে সৌরকেন্দ্রিক বর্ষগননা হত ৷ মুঘল সম্রাট আকবর তার রাজত্বকালে দেখলেন এ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন বর্ষপঞ্জী , তখন ভারতে হিজরী সন গননা পদ্ধতিও চলছে ৷ কিন্তু কর আদায়ের ক্ষেত্রে এইসব বর্ষপঞ্জী ঠিকঠাক সুবিধাজনক হচ্ছে না ফলে তিনি তার রাজ জ্যোতিষি আমির ফতেউল্লাহ সিরাজীকে এমন এক ক্যালেন্ডার তৈরি করতে বলেন যা ফসল উৎপাদনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং সৌরকেন্দ্রীক এই পঞ্জিকায় হিজরী সনেরও গুরুত্ব থাকবে ৷এর আগে হিজরী সন অনুযায়ী কর আদায় অসুবিধাজনক ছিল ৷
প্রবন্ধ
পথপ্রান্তের দেবমূর্তি
তথাগত সেন
April 09, 2026
যে কোন অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের নাগাল পেতে হলে সেখানকার অতীত যুগের বিবিধ উপাদানের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়, এই উপাদান গুলি সেই অঞ্চলে বা তার সন্নিহিত অঞ্চলে হয়ত এক দীর্ঘ সময় ধরে সঞ্চিত রয়েছে। এই সঞ্চিত উপাদান বা আরও স্পষ্ট করে বললে বিবিধ প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান সেই অঞ্চলের মানুষের সাংস্কৃতিক ইতিহাস কে বোঝার জন্য একমাত্র বিবেচিত বস্তু হতে পারে। যদিও অনেক সময় প্রচলিত লোককাহিনি বা স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনির ওপর নির্ভর করতে হয়, তবে তা কখনই মূল ইতিহাস রচনার উপাদান নয় বরং এর থেকে সহায়তা নেওয়া যেতে পারে মাত্র।
প্রবন্ধ
রেডিও নিয়ে দুচার কথা
দেবব্রত ঘোষ মলয়
April 02, 2026
তখন হাফপ্যান্ট। ঘুম থেকে উঠেই আমাদের প্রথম কাজ ছিল বাড়ির বিস্তীর্ণ বাগানের মধ্যে অবস্থিত পুকুরের বাঁধানো ঘাটে বসে দাঁত ব্রাশ করা (সে সময়ে আঙুল দিয়েই অথবা দাঁতন দিয়ে দাঁত মাজতাম আমরা)। বাবা আমাদের থেকেও ভোরে উঠে পড়ে পুকুরের পাড়ে গাছ গাছালি পরিচর্যা করতেন অফিসের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আগে পর্যন্ত। বাবার একটা ছোট্ট ট্রানজিস্টার ছিল ওই পুকুর পাড়েই বসানো থাকতে এবং তাতে সুন্দর সুন্দর গান হতো সকাল বেলা। তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট ছিল কাজল। ও হঠাৎ দাঁত মাজা বন্ধ করে চোখ গোল করে আমাকে জিজ্ঞেস করল – হ্যাঁরে মনাই, রেডিওর ভিতরে কি করে গান হয় বলতো? দাদা অগ্নিপাস থেকে বলে উঠলো – কি বোকা রে তুই এটাও জানিস না, রেডিওর ভিতরে লোকে বসে গান গায়। এরপর আমরা তিন ভাই গভীরভাবে ভাবতে বসলাম এত বড় মানুষগুলোকে কি উপায়ে এই ছোট্ট রেডিওর মধ্যে বসিয়ে দেওয়া হয়।
গল্প
রাশিচক্র
অয়ন মুখোপাধ্যায়
April 02, 2026
নদী মানুষের গল্প মনে রাখে না, সে শুধু স্রোতকেই মনে রাখে। মানুষের গল্প ফুরিয়ে যায়, স্রোত ফুরোয় না।
১৯৩০ সালের এক থমথমে রাত। গঙ্গার জল ধীরে ধীরে বয়ে যাচ্ছে। হাওড়া ব্রিজের লোহার রেলিংয়ে হাত রেখে এক তরুণ কালো জলের দিকে তাকিয়ে ছিল। দূরে কলকাতার গ্যাসবাতির আলো বিন্দু বিন্দু হয়ে ছড়িয়ে আছে। বাতাসে ভেসে আসছে জাহাজের সাইরেন। কিন্তু ওই আলো তার মনের অন্ধকারে পৌঁছচ্ছিল না।
পেছনে ট্রামের ঘণ্টা বাজছে। ঘোড়ার গাড়ির চাকা পাথুরে রাস্তায় শব্দ তুলে ছুটে যাচ্ছে। মানুষের ভিড় আরও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। অথচ এই বিরাট শহরে তার জন্য এক চিলতে জায়গাও নেই।
সন্তোষ নিজেকেই বলেছিল, “আজ রাত এগারোটার মধ্যে যদি চাকরির হিল্লে না হয়, তা হলে এই গঙ্গার কালো জলই হবে আমার শেষ ঠিকানা।”
প্রবন্ধ
বাংলায় চৈতন্য প্রভাবে ধর্ম , সমাজ ও সংস্কৃতিক বিপ্লব
অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
March 19, 2026
বাংলা তথা বাঙালির সমাজ , ধর্ম এবং সংস্কৃতিকে যিনি সম্পূর্ণ এক নতুন ধারায় প্রবাহিত করে লুপ্ত হয়ে যাওয়ার থেকে বাঁচিয়েছিলেন তাঁর মনন ও মনীষার উৎকর্ষতার মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালির একান্ত গৌরাঙ্গ শ্রীচৈতন্যদেব ৷ আজ থেকে যদি আমরা ছয় শত বছর পিছিয়ে যাই তবে এই বাংলায় সে সময় ব্রাহ্মণ্যবাদের কঠোর পেষণ , সামাজিক ঘৃণা , অবজ্ঞা , বিদ্বেষ , সর্বোপরি অমানবিক আচরণে ব্রাত্য অবহেলিত অধিকারহীন হিন্দু সমাজের এক বৃহত্তর অংশ শিষ্ট সমাজের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিল ৷ ফলে নিন্মবর্ণের হিন্দু সমাজের একাংশ ইসলামের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছিল ৷ (বঙ্কিম রচনাবলী — যোগেশ চন্দ্র বাগল সম্পাদিত , ২য় খণ্ড , পৃ ২৯৩ ) এর ফলে বাংলার মুসলমানের সংখ্যা গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে ৷
প্রবন্ধ
বাঙালির প্রিয় কবি নজরুল
সুদীপ ঘোষাল
March 10, 2026
কবি নজরুল বন্ধুদের আড্ডায় ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হতেন আর সুরের অপূর্ব কন্ঠ নিয়ে তিনি মানুষকে আজীবন ভালবেসে গেছেন। যৌবন ধর্মের অতিরেকে সারা দেশটাকে চষে বেড়াতেন আনন্দের হিন্দোলে।বিদ্রোহী কবিতা ও গান লিখে তিনি বিদ্রোহী উপাধি পান দেশের জনগণের কাছে। কবিগুরু যৌবন মূর্তি নজরুলকে অতিশয় স্নেহ করতেন এখন পাঠকসমাজের নয়নতারা স্বরূপ গণ্য হয়েছিলেন। বিদেশি সরকারের রক্তচক্ষু অবহেলা করে দুরন্ত কবি, কবিতা গান ও প্রবন্ধের সাময়িকপত্রে আগুনের ফুলকি ছড়াতে লাগলেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শুরু হতে পারত তার লেখনীর গুণে । এর জন্য কিছু কলকাতায় কারারুদ্ধ থাকতে হয়েছিল বোধ হয় রাজনৈতিক চেতনার ক্ষেত্রে ইদানিং আর কোন কবি ও লেখক এতটা উদ্দীপনার সঞ্চার করতে পারেননি।
প্রবন্ধ
বিচক্ষণ শাসক সম্রাট আকবর
সোমনাথ ভট্টাচার্য্য
March 10, 2026
আকবরের শাসননীতি তাঁর বাস্তব রাজনীতির পরিচয় বহন করে। ভারতবর্ষের মুসলমান শাসকবর্গের মধ্যে আকবর ছিলেন সর্বাপেক্ষা উদার, পরধর্মমত-সহিষ্ণুতা, সমদৃষ্টি, ধর্মনিরপেক্ষতার প্রবর্তক। কেবল মাত্র সমর কুশলীবীর হিসাবেই নয় একজন সুশাসক হিসাবেও শাসক আকবর ভারতবর্ষের রাজনীতিতে স্মরণীয় হয়ে আছেন। ভারতবর্ষে তিনিই প্রথম মুসলিম শাসক যিনি রাজনীতি থেকে ধর্মকে সম্পূর্ণ পৃথক করেন ও রাষ্ট্রকে উলেমাদের প্রভাব থেকে মুক্ত করে ভারতে একটি জাতীয় রাষ্ট্র গঠনে সচেষ্ট হন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকল প্রজাকে সমান অধিকার ও মর্যদায় প্রতিষ্ঠিত করে শাসক আকবর ‘জাতীয় সম্রাট’ পরিণত হয়েছিলেন। শাসক আকবরের শাসন ব্যবস্থায় ‘প্রজাহিতৈষনা ও ধর্মনিরপেক্ষতা’ ছিল মূল স্তম্ভ। প্রচলিত ভারতীয় রীতি-নীতি, গ্রামীন স্বায়ত্ব শাসন ব্যবস্থা কোন কিছুই শাসক আকবর উপেক্ষা করেননি। তাঁর শাসন ব্যবস্থা জনসাধারণের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। উদারতা, ধর্মসহিষ্ণুতা ও প্রজাবর্গের সর্বাধিক কল্যান সাধনই ছিল তাঁর শাসন নীতির মূল কাঠামো। ঐতিহাসিক Smith বলেন “From the time of Warren Hastings the newly constituted Anglo-Indian authorities began to grope their way back to the Institutions of Akbar”.
(পরবর্তী-মুঘল সম্রাটরা তো বটেই এমন কি ইংরেজ শাসক দল ও অনেকাংশে তাঁর শাসন
নীতি গ্রহণ করেন।)
প্রবন্ধ
কাশ্মীরের শারদাপীঠ ও বিশ্ববিদ্যালয়
প্রবীর আচার্য্য
March 08, 2026
সম্প্রতি আমেরিকা ভারত রাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। তাতে দেখানো হয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অংশ। সে প্রসঙ্গেই এই প্রবন্ধের অবতারণা।
হিমালয় পর্বতমালার বহু উঁচুতে কাশ্মীর দেশে রয়েছে হরমুখ পর্বত। বর্তমানে জায়গাটা পাক অধিকৃত কাশ্মীর নামে পরিচিত। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সেই হরমুখ পর্বতের নীচেই রয়েছে নীলম উপত্যকা। তার চারদিক ঘিরে বরফে ঢাকা দুধ সাদা গগনচুম্বী গিরিশৃঙ্গের মালা। উপত্যকাটি কিন্তু নয়নাভিরাম সবুজ বৃক্ষরাজিতে ঢাকা।
গল্প
শেষ থেকে শুরু
দিশা কুন্ডু
March 03, 2026
নীলার সাথে আজ প্রায় ১০ দিনেরও বেশি হয়ে গেল ঠিক ভাবে কথা হয় না দেবর্ষির। হয়তো ভালোবাসার বয়স বাড়লে এরকমই হয়। তখন যেন ভালোবাসার মধ্যে সেই স্নিগ্ধতা ভাবটা হারাতে শুরু করে আস্তে আস্তে।
নীলা ও দেবর্ষি দুজনেই ভীষণ নিজেদের জীবন নিয়ে ব্যস্ত দুই মানুষ। কিন্তু এটা তো প্রথম থেকেই ছিল তখন তো তাদের মধ্যে একে অপরকে সময় দিতে কোন ব্যস্ততা আসত না, তবে আজকাল আসছে কেন? হয়তো সময় মানুষকে বদলে যেতে বাধ্য করে/নয়তো মানুষই সময়টাকে বদলে দেয়।।


